কোরবানি না দেওয়া ও বন্যার্তদের প্রসঙ্গে তারকারা এ কী বললেন, উত্তর দিলেন ... - Palki News BD

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, August 19, 2017

কোরবানি না দেওয়া ও বন্যার্তদের প্রসঙ্গে তারকারা এ কী বললেন, উত্তর দিলেন ...

কোরবানি খরচা যায় মাথাপিছু ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। মাথাপিছু এই খরচা যোগ করে ২০১৫ সালে দেখা গিয়েছে শুধুমাত্র পশু কোরবানির পেছনে বাংলাদেশিরা খরচ করেছে ১৯ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। প্রতি বছরই আমাদের দেশে বাড়ে পশুর চাহিদা। ২০১৬ পেরিয়ে এখন আমরা ২০১৭ এর ঈদ-উল-আজহা তথা কোরবানির ঈদের দোরগোড়ায়। এদিকে দেশের বন্যা পরিস্থিতির অবস্থা ভয়াবহ। দরকার প্রচুর পরিমাণ ত্রান সহায়তা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় তথ্য অনুযায়ী এবারের বন্যায় ৩৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে! মন্ত্রণালয়ের সচিবের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৫২ হাজার পরিবার আংশিক
ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মারা গেছে ৩৭ জন। সুতরাং মানবতা ও ধর্ম কর্ম-এই দুই বিষয়ে প্রয়োজন নগদ অর্থ। সমস্যা হচ্ছে- কোন খাতকে প্রাধান্য দিয়ে অর্থ ব্যয় করবে মানুষ? এ নিয়ে শুরু হয়েছে বিতণ্ডা




অভিনেত্রী সোহানা সাবা ফেসবুকে কোরবানি ও বন্যার্তদের সহায়তা বিষয়ক একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন- ‘কোরবানি ঈদ সবার জন্যেই খুব আনন্দের। আমারও। নিজের অর্জিত টাকার কিছু অংশ দিয়ে গরু, খাসি, উট কোরবানি দিয়ে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেই সেই মাংস। সত্যিই আনন্দের এই বণ্টনে শরিক হতে পারাটা। কিন্তু এবার ভাবুন তো- বন্যা কবলিত মানুষদের কি পরিমাণ সহায়তা প্রয়োজন? আমরা কি এক বেলার মাংসের স্বাদ না দিয়ে বন্যার ত্রাণ নিয়ে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে পারি না? একবার ভেবে দেখুন তো’।

অন্যদিকে অভিনেতা আদনান ফারুক হিল্লোল ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- ‘এবার সকলের কোরবানির টাকা ত্রাণ তহবিলে প্রদান বাধ্যতামূলক করা বড় জরুরী মনে হচ্ছে’।

অভিনেত্রী শামীমা তুষ্টি লিখেছেন- ‘সামনে কোরবানির ঈদ। কোরবানি আপনারা অনেকেই দেবেন। কোরবানিও ত্যাগ, এটাও। আচ্ছা, কোরবানি না দিয়ে সে টাকাটা দুর্গতদের জন্য ব্যবহার করা যায় না? এবং এই ত্যাগ যার দেখার কথা, তিনি নিশ্চয় সেটা দেখবেন ও আমলে নেবেন। আর, যারা কোরবানি
দেবেনই, তারাও অন্যান্য খরচ বাঁচিয়ে আপনার তরফ থেকে সহায়তার হাত প্রশস্ত রাখুন। মানুষের পাশে থাকুন। এদিকে বন্যার ভয়াবহ তাণ্ডব। সম্ভবত স্মরণকালের সবচেয়ে নির্মম বন্যা আমরা দেখতে যাচ্ছি। একবার তাদের কথা ভাবুন, যারা সরাসরি আক্রান্ত হবেন। আমরা যখন ঈদের আনন্দে, তখন
অসংখ্য মানুষ থাকবে পানিবন্দি, দীর্ঘ অনাহারে’। যা হোক, ‘মানবতা ও কোরবানি’ প্রসঙ্গে মাওলানা মিরাজ রহমান একটি বক্তব্য দিয়েছেন।

মাওলানা মিরাজ রহমান বলেছেন- ‘কোরবানি ও বন্যাদুর্গতদের সহায়তা- এ দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, দুটি বিষয়েই মানুষের সম্পৃক্ত থাকা উচিত। কোরবানি ইসলামের একটি ওয়াজিব বিধান। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব তাকে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে বা এই বিধান পালন করতে হবে। কেউ যদি মনে করেন যে, ওয়াজিব কোরবানি বাদ দিয়ে সেই টাকাটা বন্যাগ্রস্ত মানুষকে বা কোনো অভাবীকে দান করবেন, সেটা মোটেও সঠিক হবে না এবং এটি ইসলামি হুকুম পরিপন্থী হবে। যদি কারো উপর কোরবানি ওয়াজিব হয়ে থাকে এবং তিনি সেই ওয়াজিব কোরবানি আদায় না করে টাকা বন্যার্তদের দান করেন বা অভাবীকে দিয়ে দেন, তবে সেই দানের দ্বারা তিনি সওয়াব পাবেন কিন্তু কোরবানি করার দায়িত্ব পালিত হবে না। এই ক্ষেত্রে করণীয় কী? করণীয় হলো- সর্বনিম্ন পরিমাণ অর্থ খরচ করে কোরবানির ওয়াজিব হুকুম আদায় করতে হবে।
কৃতজ্ঞতাঃ প্রিয়.কম


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad